সোলায়মান আলাইহিস সালাম (২য় পর্ব)

(আমাদের নতুন সিরিজ "ছোটদের নবী কাহিনী" । এই সিরিজে আমরা নির্ভরযোগ্য সুত্রে বর্নিত বিভিন্ন নবীদের কাহিনী জানব। ছোটদের উপযোগী করে লেখা হলেও, বড়দেরও অনেক কিছু জানার আছে)
---------------

সোলায়মানের মুজেযা
দাউদ আলাইহিস সালাম মারা যাবার পরে সোলায়মান আলাইহিস সালাম রাজা হলেন। তখন তার বয়স খুব কম। মাত্র ১৩-১৪ বছর।

দেশের মানুষ সোলায়মান আলাইহিস সালামকে খুব পছন্দ করতেন। তিনি একদিকে ছিলেন খুব বুদ্ধিমান। অন্যদিকে ন্যায় বিচারক। মানুষ তার কাছে অনেক বিচার নিয়ে আসত। নিজেদের অনেক সমস্যার কথা বলত। তিনি খুব সুন্দরভাবে তাদের মধ্যে মীমংসা করে দিতেন। সমস্যার সুন্দর সমাধান বলে দিতেন।

বাবা দাউদ আলাইহিস সালামের মতই তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র নবী। আল্লাহ তাকে অনেক মুজেযা দিয়েছিলেন। অনেক অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছিলেন। এত কিছুর পরেও তিনি সব সময় আল্লাহ্‌র হুকুম মেনে চলতেন। আল্লাহ্‌র কাছে কৃতজ্ঞ থাকতেন।

চল, সোলায়মান আলাইহিস সালামের কিছু মুজেযার কথা জেনে নেয়া যাক।

তোমরা কি কখনও বাতাসে উড়ে বেড়িয়েছ? হয়তো ভাবছ, এ আবার কেমন প্রশ্ন?

আচ্ছা চোখ বন্ধ কর। এবার ভাব, তুমি বাতাসকে বলছ ‘আমাকে বাসা থেকে স্কুলে নিয়ে যাও’, আর বাতাস তোমাকে উড়িয়ে নিচ্ছে। তারপরের ঠিক নামিয়ে দিচ্ছে স্কুল গেটে।

এমন হলে কেমন হত? তবে অনেক মজা হত, তাই না?

তোমাদের অনেকেই হয়তো ভাবছ “ধুর ছাই, এটা কি সম্ভব নাকি? গল্প কিংবা সিনেমায় এমন হলেও হতে পারে। কিন্ত বাস্তবে এতো অসম্ভব!”

শুনলে অবাক হবে, সলায়মান আলাইহিস সালামের জন্য এটা মোটেও অসম্ভব কিছু ছিল না। আল্লাহ বাতাসকে সোলায়মান আলাইহিস সালামের অনুগত করে দিয়েছিলেন।

তিনি বাতাসকে যখন যেখানে নিয়ে যেতে বলতেন, বাতাস তাকে সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যেত। সোলায়মান আলাইহিস সালামকে বাতাস দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌছে দিত। তিনি বাতাসে চড়ে সকালে এক মাসের পথ পাড়ি দিতেন। আবার বিকেলে এক মাসের পথ চলে যেতেন।

কী মজা তাই না? আমরা এখন প্লেনে করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলে যাই। কিন্ত সোলায়মান আলাইহিস সালাম বাতাসে চড়ে তার চাইতেও দ্রুত যেতেন।

সেই সাথে সোলায়মান আলাইহিস সালামের আরো বেশ কিছু মুজিযা ছিল। তিনি পশু, পাখি, প্রানীদের ভাষা বুঝতে পারতেন। তাদের সাথে কথা বলতেন।

একবারের ঘটনা।

সোলায়মান আলাইহিস সালাম তার সৈন্যদের দিয়ে এক জায়গায় যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে পিঁপড়ের বাসা ছিল। সোলায়মান আলাইহিস সালাম দেখলেন, পিঁপড়েদের নেতা সবাইকে ডেকে ডেকে সতর্ক করছে।

বলছে “তোমরা সবাই সাবধান। নবী সোলায়মান তার সৈন্যদের নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাবেন। তাদের ঘোড়ার পায়ের নিচে পড়লে তোমরা সবাই মারা যাবে। তাই সবাই মাটির নিচে চলে যাও। যাতে তারা তোমাদের ক্ষতি করতে না পারে”

সোলায়মান আলাইহিস সালাম পিঁপড়ের কথা বুঝতে পারলেন। পিঁপড়ের কথা শুনে তিনি মুচকি হাসলেন। তিনি সৈন্যদের বললেন, “ তোমরা সাবধানে চলো। যেন পিঁপড়েদের কোন ক্ষতি না হয়।“
সবাই সাবধানে রাস্তা পার হয়ে গেল। সোলায়মান আল্লাহ্‌র কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন।

আজ তিনি পিঁপড়ের কথা বুঝতে পারেন। তাইতো সাবধান হয়েছেন। তাদের কোন ক্ষতি করেন নি। যদি না বুঝতেন! তাহলে শুধু শুধু অনেক পিঁপড়ে মারা যেত।

তোমরা নিশ্চয় জান, মানুষের মতই আরেকটা জাতি আছে। তার নাম হল জ্বীন জাতি। জ্বীনেরা হল আগুনের তৈরি। তারাও আমাদের মত ঘুরে বেড়ায়। আমাদের মতই খাওয়া দাওয়া করে। তবে তাদেরকে আমরা খোলা চোখে দেখতে পাই না। তারা অদৃশ্য থাকে। তাদেরর আরেকটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। তারা খুব দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে।

তাদেরকেও আমাদের মত আল্লাহ্র ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। ক্বিয়ামাতের মাঠে তাদেরও বিচার হবে। ভাল জ্বীন যারা আল্লাহ্র কথা মানে, তারা যাবে জান্নাতে। আর যারা দুষ্ট জ্বীন, খারাপ জ্বীন, তারা যাবে জাহান্নামে।

জ্বিনদের মাঝে যারা দুষ্ট, যারা আল্লাহর কথা মানে না তাদেরকে বলে শয়তান। প্রথম শয়তান ইবলিস নিজেও ছিল একজন জ্বীন। আদম আলাইহিস সালামের কাহিনীতে তোমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছ।

সোলায়মান আলাইহিস সালাম সেই জ্বীনদের শাসন করতেন। জ্বিনেরা সোলায়মানের কথা শুনত। তার কথা মানত। সোলায়মানের আদেশে তারা বিরাট বিরাট বাড়ি বানাত। সাগরে ডুব দিয়ে অনেক মনি মুক্তা তুলে নিয়ে আসত।

জ্বীনদের মধ্যে যারা দুষ্ট, যারা অবাধ্য, সোলায়মান তাদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন।

সব মিলিয়ে সোলায়মান ছিলেন অনেক শক্তিশালি একজন রাজা। এমন রাজা পৃথিবীতে আগে কখনও আসেনি। আর কখনও আসবেও না। সোলায়মান আলাহিস সালাম আল্লাহ্‌র কাছে দুয়া করেছিলেন “হে আল্লাহ আমাকে এমন এক রাজ্য দাও, এমন ক্ষমতা দাও যেমন ক্ষমতা তুমি আর কাউকে দাও নি”

আল্লাহ সোলায়মান আলাইহিস সালামের দুআ কবুল করেছিলেন।

.
হুদহুদ পাখি ও সাবার রানী বিলকিস
সোলায়মান আলাইহিস সালামের রাজদরবারে একটা ছোট পাখি ছিল। সেই পাখির নাম হুদহুদ।

হুদহুদের একটা বিশেষ গুণ ছিল। হুদহুদ খুব সহজে পানির উৎস খুজে বের করতে পারত। তাই সোলায়মান আলাইহিস সালাম বাইরে কোথাও গেলে হুদহুদকে সাথে নিয়ে যেতেন।

একদিন তিনি দেখেন, হুদহুদ কোথাও নেই। এদিন সেদিক আশেপাশে অনেক খোজাখুজি করলেন। কিন্তু পাখিটাকে কোথাও পাওয়া গেল না। সবাই ভাবতে লাগল ‘বলা নেই কওয়া নেই, পাখিটা গেল কোথায়?’

সোলায়মান মনে মনে হুদহুদের উপর খুব রাগ করলেন। ভাবলেন “হুদহুদ আজ আসুক! আচ্ছা মজা দেখাব”

(চলবে...)

Comments

Popular posts from this blog

TruConnect APN Settings

T Mobile LTE APN Settings 2019

Straight Talk APN Settings

MetroPCS APN Settings

AT&T APN Settings

LycaMobile APN Settings US

Cricket APN Settings For Android

TracFone APN Settings

NTA apn settings Marshall islands for BlackBerry

TPG APN Settings: Step by Step Guide

You Can See APN Settings by Country